২৫শে মার্চ, ২০১৯ ইং, সোমবার

শ্যামলী পরিবহন ডাকাতির সুযোগ করে দেয়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক রুটের কোনো লোকাল যাত্রী নেয়ার নিয়ম না থাকলেও পাঁচজনকে বুড়িমারী সীমান্ত থেকে ঢাকায় আনার জন্য বাসে তোলে শ্যামলী পরিবহন। পরবর্তীতে ওই যাত্রীরা বাকি যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেয়। ঘটনাটি ঘটে গত বছরের সেপ্টেম্বরে।যাত্রীদের অভিযোগে বলা হয়, ৩০ যাত্রীর মধ্যে ২৫ জন পাসপোর্টধারী থাকলেও বাকি পাঁচজন ছিলেন পাসপোর্টবিহীন, যারা মূলত ডাকাত। তারা যাত্রীবেশে বুড়িমারী শ্যামলী পরিবহন এর কাউন্টার থেকে বাসে উঠেন।ঐ দিন রাত দেড়টার দিকে পরিকল্পিতভাবে পাঁচ ডাকাতের একজন শ্যামলী পরিবহন চালকের গলায় ছুরি ধরে বাসটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার মোবাইল সহ মূল্যবান জিনিস ঐ ৫ ডাকাত ছিনিয়ে নেন। প্রায় ৪০ মিনিট যাত্রীদের ওপর তাণ্ডব চালায় ৫ ডাকাত। পরে বাসটি থামিয়ে বগুড়ার শেরপুরের একটি ইটভাটার সামনে নেমে যায় তারা। তখন পুরো বাসে যাত্রীদের জিনিসপত্র এলোমেলোভাবে পড়ে ছিল। ওই মুহূর্তে আশ্চর্যজনকভাবে ওই বাসের যাত্রী
চালানের কপিটি পাওয়া যায়। সেই চালানে ২৫ যাত্রীর পাসপোর্ট ও টিকিট নম্বর থাকলেও ৫ যাত্রীর কোনো শনাক্তকারী তথ্য ছিল না। ওই ৫ যাত্রীই ডাকাতিতে অংশ নেন।

  • অভিযোগে আরও বলা হয় ঃ এ ঘটনার পর শ্যামলী পরিবহন কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেনি। ডাকাতিতে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থাও গ্রহণ করেনি শ্যামলী পরিবহন । ডাকাতির এই ঘটনায় পুলিশ এবং শ্যামলী পরিবহন কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় গত বছরের ডিসেম্বরে ওই বাসের ৬ যাত্রী পৃথকভাবে অধিদফতরে লিখিত অভিযোগ করেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (এডি) রজবী নাহার রজনী তাদের অভিযোগের শুনানি করেন। শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৯ সালের ভোক্তা আইনের ৪৫ এবং ৫২ ধারায় জরিমানা করা হলো।এ বিষয়ে রজবী নাহার রজনী বিনোদন টিভি কে বলেন, ভোক্তা আইনের ৪৫ ধারায় ভোক্তাকে যথাযথভাবে প্রতিশ্রুত সেবা না দেয়া এবং ৫২ ধারায় সেবাগ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্নকারী কাজ করার অভিযোগে তাদের এই জরিমানা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী শ্যামলী পরিবহনকে জরিমানার অর্থ দিতে পাঁচ কার্যদিবস সময় দেয়া হয়েছে,১৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সময় শেষ হবে. এ সময়ে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আইন অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    শ্যামলী পরিবহনের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর রমেশ চন্দ্র ঘোষ লিখিত বক্তব্যে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শ্যামলী পরিবহনের নামে অভিযোগটি অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ধরনের ঘটনার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে সে ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাব।তবে শ্যামলী পরিবহনের অ্যাকাউন্ট অফিসার জুথিষ্টির রায় বিনোদন টিভি কে বলেন, রাস্তায় কোনো দুর্ঘটনা হলে এ দায়িত্ব মালিকপক্ষ কেন নেবে? তাই ভোক্তা অধিদফতরের এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আদালতে আপিল করবো।
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Address: Phone: Mail
%d bloggers like this: