২৫শে মার্চ, ২০১৯ ইং, সোমবার

জানাজার পর একই সঙ্গে সমাহিত হলেন মা ও মেয়ে

আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আলফু মিয়ার কলিজার টুকরো ছিল সামিনা নুর নীলা (২৫)বাবা-মেয়ের সম্পর্কটা ছিল বন্ধুত্বের। একইভাবে মেয়ের মধুর সম্পর্ক ছিল মায়ের সঙ্গেও। খাওয়া-দাওয়া, বাইরে যাওয়া সবই মাকে নিয়ে করতেন সামিনা নুর নীলা।

গত বুধবার এক সড়ক দুর্ঘটনায় একই সঙ্গে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন মা ও মেয়ে সামিনা নুর নীলা। এক সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাদের নামাজে জানাজা। পরদিন বৃহস্পতিবার পাশাপাশি সমাহিত করা হয়েছে তাদের।মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার বাসিন্দা সামিনা নুর নীলা । বাবার চিকিৎসা শেষে গত বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার এনা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি খাদে পানিতে ঢুবে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অপর এক যাত্রীসহ নিহত হন সামিনা নুর নীলা (২৫) ও তার মা রুবিনা বেগম (৪৫)।আহত হন বাবা আলফু মিয়া (৬৫) ও ছোট ভাই আসিফ (২০)।

পরিবারের দুইজনকে হারিয়ে নির্বাক বাবা-ছেলে। মুখে সামান্য পানিও নিতে চাচ্ছেন না তারা। বড় বোন সামিনা নুর নীলা ছিল আসিফের বন্ধু আর মা তো ছিল আসিফ এর পৃথিবী।কান্না করতে করতে আসিফ বলেন, এমন ঘটনা একটি পরিবারকে কি করে মুহূর্তেই তছনছ করে দিতে পারে, তা শুধু সেই বুঝবে যার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। আর যেন এমন ঘটনা কারও সাথে না ঘটে সেই ব্যবস্থা করুক বাংলাদেশ সরকার।

  • স্ত্রী আর মেয়ের শোকে নির্বাক আলফু মিয়া, নিজেও ছিলেন সেই গাড়িতে। দুর্ঘটনায় তিনিও শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছেন কিন্তু ওষুধ খাওয়াতো দূরের কথা সামান্য পানিও মুখে নিচ্ছেন না আলফু মিয়া। কারও সঙ্গে কথাও বলছেন না শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে আছেন।প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা দাঁড়িয়ে থেকে চোখের পানি ফেলে চলে যাচ্ছেন ।
  • তাদেরই একজন জানান, কয়টা দিন পরেই বিয়ে ছিল সামিনা নুর নীলার। পরিবারের সবাই মিলে শেষ করেছেন বিয়ের কেনাকাটাও কিন্তু কে জানতো পরিবার টি এভাবে শেষ হয়ে যাবে?
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Address: Phone: Mail
%d bloggers like this: