বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল, এই কারনে বউ-শাশুড়িকে …।

গত ১৩ মে সিলেটে খুন হয়েছে বউ-শ্বাশুড়ি ,কয়েকদিন ধরে আলোচনার তুঙ্গে সিলেটের এই বউ-শ্বাশুড়ির জোরা হত্যা নিয়ে।শুরুতে খুনটি রহস্য হিসেবে থাকলে ও আস্থে আস্থে বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল। লন্ডন প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। আর সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় ঘটেছে এ জোড়া খুন ।

গত বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ আদালতে এ ঘটনায় গ্রেফতার মো. তালেব ও জাকারিয়া আহমেদ শুভ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের এমন রোমহর্ষক বর্ণনা দেয় ।সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্পা জাহান।

একটি সুত্র থেকে জানা যায়, ওই দিন চাকু দিয়ে ভয় দেখিয়ে শাশুড়িকে বেঁধে রাখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাড়িতে প্রবেশের পর সে পরিকল্পনা কাজে আসেনি । পরে চাকু দিয়ে একাধিক আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। শাশুড়ির মৃত্যুর আগের চিৎকারে পুত্রবধূ এগিয়ে এলে তাকেও চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়।এতে ঘটনাস্থলে পুত্রবধূ ও মারা যান।বিকেল সাড়ে ৫টায় নিজ কার্যালয়ে গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেয়া জবানবন্দি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা।পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতার আসামিদের দেয়া তথ্যে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু, আসামিদের রক্ত মাখা জামা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ১১ মে তালেব, শুভ ও তাদের অপর এক বন্ধু লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরীর স্ত্রী রুমি বেগমকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে।ঘটনার দিন রাতে তালেব পূর্ব পরিচিতি সুবাদে ঘরে ঢুকতে চাইলে প্রবাসী আখলাক চৌধুরীর মা মালা বেগম গেট খুলে দেন। এ সময় তার সঙ্গে শুভকে দেখে তার পরিচয় জানতে চান মালা বেগম ।কিন্তু তালেব কোনো উত্তর না দিয়ে চাকু দিয়ে মালা বেগমকে হত্যার ভয় দেখান। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয় তাকে ।আঘাত পেয়েও তিনি দৌড়ে একটি কক্ষে ঢুকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন কিন্ত শাশুড়ির চিৎকার শুনে দৌড়ে তাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গেলে রুমি বেগমকে নিজের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে শুভ তাকে আঘাত করে।এতে ঘটনা স্থলেই শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়।ঘটনার পরই তারা পালিয়ে যায়। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের দুইজনসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তালেব ও শুভ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

সংবাদ সম্মেলনে আর উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসম শামছুর রহমান ভূঁইয়া এর সহকারী পুলিশ সুপার সদর মো. নাজিম উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম,ও ওসি (ডিবি) মো. শাহ আলম,ডিএসবির ডিআইও (১) মো. মাহবুব আলম প্রমুখ।

গত রবিবার রাত ১১ টায় উপজেলার কুর্শি ইউনিয়মের সাদুল্লাপুর গ্রামে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন সাদুল্লাপুর গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী ও লন্ডন প্রবাসী পুত্র আখলাক চৌধুরীর মা মালা বেগম,
বউ রুমি বেগম।ওই রাতে আত্মচিৎকার শুনে গ্রামবাসী ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের বাহিরে উঠানে গৃহবধূ রুমি বেগম ও ঘরের ভিতরে তার শাশুড়ি মালা বেগমের ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পান।

Facebook Comments
(Visited 6 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*